Rajouri: ভিড় থেকে দূরে, কাশ্মীরের সৌন্দর্যের ভিন্ন দৃশ্য দেখতে রাজৌরিতে আসুন


রাজৌরি জায়গাটি কেমন শুধুমাত্র আমরা খবর শুনেছি। আর সেই কারণেই হয়তো আমি বেশি পশমের পোশাক বহন করেছিলাম না. ভেবেছিলাম জম্বু এর মতই হবে. ভেবেছিলাম জম্বু তে যখন এত ঠান্ডা নেই তাহলে হয়তো রাজৌরি তেওঁ এত ঠান্ডা পড়বে না. কিন্তু যাওয়ার পরে সম্পূর্ণ উল্টোটাই হল. গিয়ে বুঝলাম জম্বু থেকেও এখানে ঠান্ডার পরিমাণ অনেক বেশি।

আমার কথা শুনে বুঝতেই পারছ একটু শীত কমলে আমরা বেরিয়ে পড়েছিলাম ঘুরতে। স্বাভাবিকভাবে সবাই শীতের সময় ঘুরতে বেরোয়, কিন্তু আমরা যে জায়গাটি ঠিক করেছিলাম ঘুরতে যাব বলে, সেখানে শীতের সময় গেলে আমরা বাঙালিরা জমে বরফ হয়ে যেতাম। অতএব শীতের শেষে যাওয়াটা স্থির হয়েছিল।

দশ দিনের অফিসের ছুটি নিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়েছিলাম। আমরা বলতে আমরা চার বন্ধু। আমি, দিব্যজ্যোতি, অনির্বাণ, আর আশিকুল। সবাই আলাদা আলাদা জায়গায় কাজ করি তবু খুব ম্যানেজ করে 10 দিনের ছুটি নিয়ে একটা নিশ্চিন্তে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে 29 শে ফেব্রুয়ারি বেরিয়ে পড়েছিলাম।

প্রায় তিন দিনের জার্নি বেশ খানিকটা তৈরি হয়েই আমাদের বেড়াতে হয়েছিল। এর আগে আমাদের মধ্যে কেউ এত বড় জার্নি করেনি। কারণ ট্রেনে করে কলকাতা থেকে জম্মু-কাশ্মীরে পাড়িয়ে দেওয়া কোন যুদ্ধ জয়ের থেকে কম নয়, তাছাড়া এমনিতেও সব সময় যেখানে গরম হাওয়া চলে.

যাই হোক কোনক্রমে চার বন্ধু পৌঁছে গেলাম হাওড়া স্টেশনে সাড়ে এগারোটার সময় রাত. হাওড়া স্টেশনে পৌঁছানোর পথে কোন বাধা পেরোতে হয়নি, কারণ সব থেকে বড় বাধা ছিল আমার পেট ব্যাথা। সেটা হয়নি, আর এ কারণে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছানোর পর আমি অনেক সাবাসী পেয়েছি বন্ধুদের কাছ থেকে। এর আগে বেশ কয়েকবার আমাকে নিয়ে ভুগেছে ওরা.

কি ভাবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে জম্বু এবং রাজৌরি তে যাবে?

হাওড়া স্টেশন থেকে আমাদের ট্রেন ছিল রাত 11 টা 55 হিমগীরি এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে জম্মু যাওয়ার জন্য এই ট্রেনটি সপ্তাহে তিন দিন চলে মঙ্গলবার শুক্রবার এবং শনিবার। পশ্চিমবঙ্গ থেকে জম্বু যাওয়ার জন্য হাওড়া থেকে সরাসরি আর ট্রেন পাওয়া যায় না. এছাড়া আরো দুটি ট্রেন আছে একটা ট্রেন শিয়ালদা থেকে ছাড়ে যার নাম "জম্বু তাওয়াই হামসাফার এক্সপ্রেস" শুধুমাত্র সোমবারের দিন ছাড়ে দুপুর একটা দশে। আর কলকাতা থেকে "জম্বু তাওয়াই এক্সপ্রেস" ছাড়ে সকাল 11:45। যেহেতু আমরা শনিবারের দিন প্ল্যানটা করেছিলাম সেই কারণে আমরা শিয়ালদা থেকে ট্রেন ধরতে পারিনি। শনিবারের আগে ছুটি পায়নি আর সোমবার থেকে ছুটি নিলে নানান দিকে অনেক অসুবিধা হচ্ছিল। কলকাতা স্টেশন থেকে জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেস ধরিনি কারণ সকালে আমাদের চার বন্ধুর একটা ঘুমভাঙে না। তো আমাদের শেষমেষ হিমগিরি ভরসা ছিল।

ট্রেনে ওঠার পরে চারজনে হালকা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুমিয়ে পড়লাম বলাটা ঠিক উচিত হবে না, কারণ এতটা এক্সাইটমেন্ট ছিল আমাদের মধ্যে যে ঘুম কারো আসছিল না. তাই নানান ধরনের গল্প চলছিল নিজেদের মধ্যে। তার মধ্যে লুডু খেলা চলছিল, একটু অফিসের আলোচনা, একটু পার্সোনাল লাইফ এর আলোচনা, একটু গার্লফ্রেন্ডের আলোচনা, এই করতে করতেই চারজনে একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম।

ট্রেনে বা বাসে ঝাকুনিতে অনেকের ঘুম হয় না। অনেকে ইরিটেট ফিল করে। কিন্তু, আমার বেশ হালকা ঝাকুনিতে বেশ ভালো ঘুম হয়। তিন দিনের লম্বা জার্নি, তার মধ্যে ছোটখাটো অনেক ঘটনা ঘটেছে ট্রেনের মধ্যেই। অনেক নতুন মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে কথা হয়েছে। তো সেই কথাগুলো যদি এখন বলতে চাই দিন রাত কাবার হয়ে যাবে। কারণ 72 ঘন্টার গল্প আর আমি দশ মিনিটে বলা অসম্ভব।

নানান ভাবে আমাদের দিন রাত কাটছে। বুকের মধ্যে এক অদম্য উত্তেজনা, আবার অন্যদিকে প্রায় 48 ঘন্টার ট্রেন সফর দুটো মিলিয়ে জগাখিচুড়ি হয়ে গেছিল। কিন্তু উত্তেজনার কাছে সে সবই হার মানছে। 29 তারিখের রাত 11 টার ট্রেন ধরেছিলাম। 1 তারিখ পুরো গড়িয়েছে। ২ তারিখ দুপুর একটা দশে ট্রেন জম্বু স্টেশন পৌঁছানোর কথা ছিল. কিন্তু আমাদের ভারতবর্ষের রেলের কন্ডিশন এতো ভালো যে তাতে ট্রেন আরো 10 ঘন্টা লেট করল. আমাদের চারজনের মাথা যেভাবে চোটে গেল. মনে হচ্ছিল রেলমন্ত্রীকে পেলে এখনই বস্তায় বেঁধে পেটাতাম।


ট্রেন আমাদের নামালো রাত 11 টায়। সময়টা এরকমই, 'না ইস পার না উস পার' কোনোদিকে যাওয়ার মতন অবস্থায় আমরা ছিলাম না। তার উপর পাহাড়ি এলাকা, কনকনে ঠান্ডা আর বুঝতেই পারছো আমরা কলকাতার মানুষ, এম্তনিতেই একটু ঠান্ডাতে কাবু হয়ে যাই। আর এতো জম্মু-কাশ্মীর, পৃথিবীর সর্ব স্বর্গ।

স্টেশনে নামার পর এবার চিন্তা, ঠাঁই হবে কোথায়? এত রাতে কনকনে ঠান্ডা পাহাড়ি অঞ্চল। একবার নিজেকে চোখ বন্দ করে এই অবস্থায় ইমাজিন করে দেখো, "পূর্ণিমা রাত, পাহাড়ি অঞ্চল চারিদিক জঙ্গল এ ঘেরা, আশেপাশে কেউ নেই লোক শুন্য প্রান্ত, চারিদিক দিয়ে ঠান্ডা হাওয়া তোমার গা ঘেঁষে বয়ে যাচ্ছে।"

শেষ পর্যন্ত ঠিক করলাম স্টেশনে রাতটা কাটাবো। ভোর হলে তারপর বেরনো যাবে। খুব বেশি গরম পোশাক এনেছিলাম না, কারণ ওয়েদার রিপোর্ট অনুযায়ী জম্মু তে ২২ডিগ্রী ২৩ ডিগ্রি। সেই অনুজাই পোশাক আনা. আমাদের কলকাতা থেকে সামান্য কম। কিন্তু রাতে যে পারদ এত্ত নেমে যাবে বুঝতে পারিনি। এখন নিজেকে আহাম্মাক মনে হচ্ছে।

স্টেশনের কোন স্টল খোলা নেই। কোন রেস্তোরা নে। খিদে পেয়েছে মারাত্মক তার ওপরে কনকনে ঠান্ডা। এই প্লাটফর্ম ওই প্ল্যাটফর্ম করে স্টেশন মাস্টার কে খুঁজে রেস্ট রুমে একটু শোয়ার ব্যবস্থা করা গেল।

স্টেশন মাস্টার কে গাড়ি পাওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করলে, উনি বললেন ভোর সাড়ে চারটে পাঁচটা থেকে আপনি এখান থেকে রাজৌরি যাওয়ার গাড়ি পেয়ে যাবেন। আর মাত্র 5 ঘন্টা, পুরো শরীর উত্তেজনায় লাফাচ্ছে।

ভোর পাঁচটা হতে হতেই চারিদিকের লোকজনের আওয়াজ কানে আসতে লাগলো ঘুম ভেঙে গেল। স্টেশন মাস্টার কে ধন্যবাদ জানিয়ে বেরিয়ে এলাম স্টেশন চত্বর থেকে। চা-বিস্কুট খেয়ে থাকার উপায় নেই, কারণ রাতে খাই নি।একটু ভারী কিছু খেলাম খেয়ে, ফোরহূইলার ধরে বেরিয়ে পড়লাম। জম্মু স্টেশন থেকে রাজৌরি দূরত্ব বেশ খানিকটা। রাস্তায় জনবসতি আছে কিন্তু আমাদের কলকাতা শহরের মত ওরকম নয়। একটা জায়গায় বেশ কয়েকটা বাড়ি। আবার কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে আবার বেশ কয়েকটা বাড়ি । এদের মধ্যে দূরত্ব অনেকটাই।

আমার গাড়ি জম্মু ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে বেরিয়ে জম্বু আখনার (Jammu - Akhnoor Highway ) হাইওয়ে ধরল. জম্বু স্টেশন থেকে আখনোর ফোর্ট এক ঘন্টার রাস্তা প্রায় ২৯ কিমি.। যদি না রাস্তায় কোন ট্রাফিক জ্যাম থাকে। এখনো পর্যন্ত হাইওয়ে এর পশে জনবসতি এলাকা। ভয় এর কিছু নেই। আমি শুধু শুধু রাতে একটু ঘাবড়ে গেছিলাম।

গাড়ি করে প্রায় 22 কিলোমিটার চলে এসেছি। তারপর গাড়ি একটি বাঁক ধরল বাইপাস ছাড়িয়। গাড়ি এখনো হাইওয়ে তেই আছে। বাকটা ঘুরতেই চেনাব নদীর (Chenab River) গা ঘেঁষে এগোতে থাকলাম।

ব্রিজ এর মাধ্যমে নদীটা পার করে কিছুটা এগিয়ে গাড়ি বাঁদিকের রাস্তায় নেমে গেল. ব্রিজ পার করে আখনর ফোর্ট। আর মাত্র দেড় কিলোমিটার। ফোর্ট তা দেখেই আবার বেরিয়ে যাব রাজৌরি লক্ষ্যে।

আখনূ্র ফোর্ট এর ইতিহাস

আখনূর দুর্গটি চেনাব নদীর তীরে অবস্থিতি, ১৮০২ সালে রাজা আলম সিং নির্মাণ করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, দুর্গটির নির্মাণ ১৭৬২ সালে রাজা তেগ সিংয়ের নির্দেশে শুরু হয়েছিল এবং 1802 সালে তাঁর পুত্র রাজা আলম সিং এটি সম্পন্ন করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক দুর্গটি জম্মু থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুসারে, এই দুর্গটি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক শহর মান্ডার ধ্বংসাবশেষে নির্মিত হয়েছিল, যেখানে হরপ্পা সভ্যতা এবং কুশন বংশের অবশেষ প্রত্নতাত্ত্বিকরা পেয়েছিলেন। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাত্পর্য্যের কারণে ১৯৮২ সাল থেকে এই দুর্গটি ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ (এএসআই) এর অধীনে রয়েছে এবং ১৯৫৮ সালের স্মৃতিসৌধ আইন অনুসারে এটি একটি সুরক্ষিত জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। খননকার্যে এই অঞ্চলে মানব বসতির চারটি বিভিন্ন সময়কালের কথা বলা হয়েছে - প্রাক-কুশন কাল (খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী), কুশন সময়, গুপ্ত সময় এবং কুশন কাল এর পরের সমায়।

এই দুর্গটি আসলে একটি প্রাচীন স্থানে অবস্থিত যা হরপ্পা সভ্যতার সম সমায়ের। এটাও বিশ্বাস করা হয় যে মহাকাব্য মহাভারতের পাণ্ডবগণ একবার তাদের নির্বাসনের শেষ বছরকালে দুর্গের নিকটে আখনূরের গুহায় অবস্থান করেছিলেন। অখ্নূর মহাভারতে উল্লিখিত কিংবদন্তি বিরাট নাগারি হিসাবে বিবেচিত। ইতিহাসবিদ আলেকজান্ডার কানিংহামের মতে, উনিশ শতকে জম্মু প্রদেশে ১৯ টি রাজ্য ছিল এবং তাদের মধ্যে আখনূর ছিল বৃহত্তম।

নার্দি গ্রাম

আখনূ্র ফোর্ট থেকে রাজৌরি এখনো তিন ঘন্টা রাস্তা। আহমেদপুর থেকে বেরিয়ে এখনো পর্যন্ত গাড়িতে প্রায় আধ ঘন্টা হয়ে গেল ।এতক্ষণ গাড়ি জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু, যখনই Kotli Tanda মান্দির পেরাল তারপর থেকেই জনমানবহীন রাস্তা শুরু।

ড্রাইভারকে গাড়ি দাঁড় করিয়ে গাড়ি থেকে নামলাম একটু ফ্রেশ হওয়া নিয়ে নিলাম, গাড়িতে বসে এক ঘেয়েমি লাগছিলো। আমরা এতক্ষন ধরে নার্দি নামের একটি বড় গ্রামের মধ্যে দিয়া আসছিলাম।

নার্দি জম্মু জেলার আখনূর তাহসিলের একটি বৃহত গ্রাম, যেখানে মোট ৬২৪ টি পরিবার বাস করে। নারদী গ্রামের জনসংখ্যা হল ২৭১৯, এর মধ্যে ১৪০১ জন পুরুষ এবং ২০১১ সালের আদম শুমারি অনুসারে ১৩১৮ জন মহিলা।

ভারতের সংবিধান এবং পঞ্চায়েতী রাজ আইন অনুসারে নারদী গ্রামটি সরপঞ্চ (গ্রামের প্রধান) দ্বারা পরিচালিত হয় যারা গ্রামের নির্বাচিত প্রতিনিধি নির্বাচিত হন।

কান্দি গ্রাম

নার্দি গ্রাম এরপরে আমরা প্রবেশ করলাম কান্দি গ্রাম। কান্দি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের জম্মু জেলার আখনূর ব্লকের একটি গ্রাম। এটি জেলা সদর জম্মু থেকে 38 কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। আখনূর থেকে ১৬ km কিমি এবং জম্মু থেকে ১৩৭ কিলোমিটার দূরে েই রাজ্যের রাজধানী শ্রীনগর।

কান্দি স্থানীয় ভাষা হিন্দি। কান্দি গ্রামের মোট জনসংখ্যা ৫০৩ এবং বাড়ির সংখ্যা 104। মহিলা জনসংখ্যা ৪৬.৭% গ্রামের সাক্ষরতার হার ৫১.১% এবং মহিলা সাক্ষরতার হার ১৮.৭%।

এতক্ষণ পর্যন্ত যে গ্যান গুলি আমি দিলাম তোমাদের, এগুলি সবই বইয়ের পাতা ইন্টারনেট থেকে পাওয়া। আমার মনে হল যেখান দিয়ে আমি যাই, এবং যেখানে আমি যাব তার সমস্ত কিছু জেনে নেওয়া উচিত। সব গ্রামের বিবরণ দিচ্ছি না.

গ্রামের আয়তন এবং জনসংখ্যা দেখে বুঝতেই পারছো এখানে জনবসতি অতটা নেই পাহাড়ি এলাকা তার মধ্যে দিয়ে গাড়ি এঁকেবেঁকে যাচ্ছে। এখনো দু ঘন্টা বাকি চিঙ্গাস CHINGAS পৌঁছাতে।

DEV JAGIR পেরিয়ে ড্রাইভার একজায়গায় গাড়ি দাঁড় করলো। কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করতে বললো বাবু বহুত ভুখ লাগা হয় কুচ খাঁ লেই. আমিও তার কোথায় সায় দিয়া বললাম ঠিক হয় চাল হাম ভি থোড়া খাঁ লেতে হায়. উপরের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ধাবা এর নাম Sainik Viashnu Dhaba.

দুজনে আলু পরোটা এবং ছোলা খেলাম ভালোই লাগলো খেয়ে। খাওয়া দাওয়ার পরে দু মিনিট বসে আবার বেরিয়ে পড়লাম রাজৌরি লক্ষ্যে।

পাহাড়ি এলাকা। গাছপালা চারিদিকে বেশ আছে. কিন্তু জনবসতি যে একদমই নেই তা কিন্তু নয়. জনঘনত্ব টা কম, একটি বাড়ি থেকে আরেকটি বাড়ির দূরত্ব নাই হোক 200 মিটার হবে. তবে কিছু জনবসতি আছে একদম যে ফাঁকা জায়গায় তা-ও নয়

পাহাড়ি এলাকা। গাছপালা চারিদিকে বেশ আছে. কিন্তু জনবসতি যে একদমই নেই তা কিন্তু নয়. জনঘনত্ব টা কম, একটি বাড়ি থেকে আরেকটি বাড়ির দূরত্ব নাই হোক 200 মিটার হবে. তবে কিছু জনবসতি আছে একদম যে ফাঁকা জায়গায় তা-ও নয়.

ধাবা থেকে বেরিয়ে ৬০ কিমি পরে চিংগাস। ধাবা থেকে একে বেকে পথ এগোতেই একটা সোজা রাস্তা, সোজা রাস্তার পরেই নওশেরা পার করে আবার রাস্তাটা এঁকেবেঁকে এগিয়ে যেতে লাগলো ঘন পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্যে দিয়া।

চিঙ্গাস এর ইতিহাস | History of Chingus

প্রায় এক ঘন্টা পার হয়ে গেছে 60 কিলোমিটার পর চলে এসেছি এবং এসে পৌঁছেছি চিংগাসে। এবারের চিংগাসের গল্প বলি.

চিঙ্গাস সম্বন্ধে বলার আগে এটি বলে দি এটি রাজৌরির সেই এলাকা। যেখান দিয়ে মোগল শাসক গ্রীষ্মকালে কাশ্মীর ঘাঁটিতে যেতেন।

মুঘল দ্বারা তৈরি এই ধর্মশালার অবশেষ এখনো এখানে পাওয়া যায়। কিছুদুর যাওয়ার পরে চিঙ্গাস নামে একটি রাস্তা চলে আসলো, যেটিকে মুঘল বাদশাহ আকবর বানিয়েছিলেন। এখনকার সময় এই আসল রাস্তার ধারে এটি একটি নিস্তব্ধ এলাকা, যেখানে মুঘল বাদশাহ জাহাঙ্গীর এর শরীরের  কিছু অংশ কবর দেওয়া আছে.

চিঙ্গাস কে ফারসি ভাষায় আন্তঃ বলে. ঘটনা তা ঠিক এরকম যে, মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁর বেগম নূর জাহানের সাথে এক বছর থাকার পর কাশ্মীর থেকে সুলতানে ফিরে আসছিলেন।

চিঙ্গাস এ পৌঁছে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে এবং সেখানেই তিনি মারা যান। উত্তরাধিকার সংগ্রামকে এড়াতে আগ্রায় পৌঁছানোর আগে নূর জাহান এই সংবাদটি সর্বজনীন করতে চাননি।

মৃত্যুর পরে শরীরের যে অংশগুলি দ্রুততম পচে যায়, সেই অঙ্গগুলি কেটে ফেলা হয়েছিল এবং জাহাঙ্গীরের অন্ত্রগুলি সহ এখানে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।

অন্ত্র এবং পেটের ভিতরের অংশটি সরিয়ে নিয়ে তাঁর শরীর এমনভাবে সেলাই করা হয়েছিল যে আগ্রায় পৌঁছানোর আগে কেউ বুঝতে পারেনি জাহাঙ্গীর মারা গিয়েছেন। এইভাবে যেখানে জাহাঙ্গীরের অন্ত্র সমাধিস্থ হয়েছিল, সাে জায়গাটি চিঙ্গাস  হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছে। এখানে জাহাঙ্গীরের অন্ত্রের সমাধি আজও নিরাপদ ভাবে আছে। কিন্তু এখন এই জায়গায় মানুষের সারগাম খুব ই কম.

তবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দেওয়া বোর্ডগুলি সাক্ষ্য দিচ্ছিল যে সাইটটি সরকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ। আমি আমার ক্যামেরাটি এখানে ভাল ব্যবহার করেছি।

Post a Comment

0 Comments