রসগোল্লা কার তা নিয়ে টানটান লড়াই, তবে কি রসগোল্লার জনক নবীনচন্দ্র দাস নন?

রসগোল্লা কার তা নিয়ে টানটান লড়াই, রসগোল্লা তবে কার?

 জি আই এর কন্ট্রোলার জেনারেলের নেতৃত্বে শহরে আসেন এক প্রতিনিধি দল। কলকাতার সল্টলেকে চলে প্রথম পর্যায়ের শুনানি। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের আধিকারিক ও মিষ্টি ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধি ও ঐতিহাসিকবিদেরা।
মূলত গোটা পৃথিবীর মধ্যে রসগোল্লার জনক যে এই রাজ্যই, তার সপক্ষে বেশ কিছু নথি জমা দেয় রাজ্য। সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে পশ্চিমবঙ্গের দাবিতেই সন্তুষ্ট জি আই। রসগোল্লা যে বাংলারই তা নিয়ে যথেষ্ট জোরালো যুক্তি খারা করে রাজ্য।
রসগোল্লা নামক যুদ্ধে ওড়িশা পিছিয়ে থাকলেও তা মোটেই মানতে রাজি হয়না ওড়িশা সরকার। ফলে জল গড়িয়ে যায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৩ জন বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে রসগোল্লা নিয়ে চলে শুনানি।
রাজ্য সরকারের সলিসিটর জেনারেল বলেন : "রসগোল্লা যে বাংলার তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। পৃথিবীর মধ্যে রসগোল্লা যে তৈরি হয়েছিল প্রথম পশ্চিমবঙ্গতেই তা অমান্য করতে গেলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিসকেও অমান্য করতে হয়। তার মধ্যে প্রধান ও অন্যতম হলো নবীন চন্দ্র দাস। যার জন্ম ১৮৪৫ সালে কোলকাতার বাগবাজারে।"
সলিসিটর জেনারেল আরও বলেন, "১৮৬৪ সালে চিতপুরে মিষ্টির দোকান করেন বিখ্যাত ময়রা নবীন চন্দ্র দাস। চার বছরের চেষ্টার পর অবশেষে ১৮৬৮ সালে বিশ্বের প্রথম রসে ডোবা মিষ্টি রসগোল্লা তৈরি করেন। তার বাড়ি এবং দোকানের ইতিহাস যা এখনও বর্তমান।

কলকাতার রসগোল্লা এর জনক নবীন চন্দ্র দাস
চৈতন্য চরিতামৃতত -তেও রসগোল্লার উল্লেখ আছে।।"

এরপর ওড়িশার আইনজীবী পেটেন্ট দপ্তর এবং একইসঙ্গে আদালতে রসগোল্লার মালিকানা দাবি করেন। ওড়িশার দাবি রসগোল্লার জন্ম ওড়িশার ভুবনেশ্বরের কাছে পহল গ্রামে। দ্বাদশ শতকেই যে রসগোল্লা তৈরি হতো জগন্নাথ দেবের মন্দিরে, তার ঐতিহাসিক প্রমান আছে। শত শত বছর ধরে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ভোগে রসগোল্লা দেওয়া হয়েছে।
ফের অবজেকশন জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সলিসিটর জেনারেল বলেন, "ওড়িশার দাবি অযৌক্তিক, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের উপর জোরালো আঘাত হানা হচ্ছে। নবীন চন্দ্র দাস যে আদতেই রসগোল্লার স্রষ্টা তার প্রমাণ রসগোল্লার সমসাময়িক মিষ্টির দোকান ও মিষ্টি যেমন গাঙ্গুরাম অথবা লেডিকিনীর স্রষ্টা ভিমনাগের ইতিহাসেও পাওয়া যায়।
১৮৬৮ সালে পশ্চিমবঙ্গে যে গোয়ালা বিদ্রোহী আন্দোলন চলে তা মিষ্টির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এছাড়াও ১৮৬৮-১৮৯৩ এই ২৫ বছরে রসগোল্লা তৈরির গোপন পদ্ধতি যে নবীন চন্দ্র দাস নিজের হাতে শিখিয়ে দিয়েছেন তা শুধু এই রাজ্যেই নয়, অন্যান্য রাজ্যেও বড় বড় মিষ্টির দোকানের ইতিহাসে তার প্রমান মেলে।
অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে একে অপরের যুক্তিতে, ঐতিহাসিক বাক-লড়াই শুরু হয় দুই রাজ্যের রাজ্য প্রতিনিধিদের মধ্যে। কিন্তু আদতেই ওড়িশার কোনও নথি কার্যতই ধপে টেকে নি। অবশেষে ফের ঐতিহাসিক রায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতের, রসগোল্লা বাংলারই। নবীন চন্দ্র দাস যে সত্যি ময়রা ছিলেন এবং তিনি যে প্রথম রসগোল্লা তৈরি করেন তা এখন জলের মতো না কার্যতই মিষ্টির মতো সুস্বাদু ও স্পষ্ট হলো।

Post a Comment

0 Comments