INTRODUCING A NEW KOLKATA ঃ কল্পনা নয়-বাস্তবের প্রতিচ্ছবি

Introducing A New KOLKATA : কল্পনা নয়-বাস্তবের প্রতিচ্ছবি

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
Poster : Introducing A New Kolkata

 নতুন কোলকাতায় আপনাদের সক্কলকে স্বাগতঃ

প্রধান প্রাচ্য দেশগুলির মধ্যে যে ভারত একটা অন্যতম দেশ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই ভারতের মধ্যে কোলকাতা নামের এক শহরকে নিয়ে আমাদের আজ এই বিশেষ নিবেদন। পশ্চিমবঙ্গ জেলার তথাকথিত শহর গুলির থেকে একেবারে আলাদা হলো আমাদের এই কলকাতা বা ক্যালকাটা, যা পরবর্তী কালে কোলকাতা নামে পরিচিত হয়।

THE CITY OF JOY:


"THE CITY OF JOY" বললেই প্রথমেই যে শহরটার নাম আসে সেটি হলো কোলকাতা।পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর ও ব্যাস্ত জনবহুল শহর গুলির তালিকায় যার নাম আসে প্রথম ১ থেকে ৫ এর মধ্যে। কোলকাতায় যেমন আছে এক অদ্ভূত সৌন্দর্যতা, ঠিক তেমনই আছে দূষণের অপার্থিবতা। কিন্তু সে কথা বরং এখন থাক, কোলকাতার সবথেকে ভালো বর্ণনা দেওয়া যাবে যদি এটাকে আবেগের শহর বা চমকের শহর কিংবা যদি ইতিহাসের শহর বলা যায়।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
THE CITY OF JOY
 ইতিহাসের দিক থেকে কলকাতা শহরের জুড়ি মেলা ভার। সে খাওয়ার জিনিস থেকে শুরু করে বড় বড় সব 'হেরিটেজ' তকমা পাওয়া বাড়ি গুলো। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, এই সব বড় বড় 'হেরিটেজ' তকমা পাওয়া বাড়ি গুলো এক-একটা ভূতেদের ডিপো। হবে নাই বা কেন, কোলকাতায় যেসব বড় বড় বাড়ি গুলো ছিল সব ভেঙে তৈরি হচ্ছে শপিং মল। কোলকাতার পুরোনো বাড়ি গুলো খুব দ্রুত ভ্যানিস হয়ে যাচ্ছে। উত্তর কোলকাতার দু-দুটো শতাব্দী পার করা বাড়ি গুলোর থেকে দক্ষিণ কলকাতার আর্ট-ডেকোন স্টাইলের বাড়ি। প্রগতির গুঁতোয় সব ভাঙা পড়ছে। রাজ-স্বরাজ পেরিয়ে এখন শুরু হয়েছে প্রমোটার রাজ। পারলে বোধকরি রাইটার্স বিল্ডিং খুলে সাত তলা হোটেল খুলে বসে। নিত্যনতুন কন্ডোমোনিয়াম, প্যান্ডামোনিয়াম, মাল্টিপ্লেক্স, মল-মূত্র ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। একমাত্র হেরিটেজ তকমা পাওয়া বাড়ি গুলো আর পজিসন ডিসপুটেড পাওয়া বাড়ি গুলো ছাড়া। যদিও সেগুলো সংখ্যায় খুব নগণ্য এবং ভগ্নপ্রায় দশা। এখন কথা হচ্ছে এতে সমস্যায় পড়েছে করা? আপনারা হয়তো বলবেন বাঙালি, কিংবা ওই মিডিল ক্লাস বাঙালি! কারণ প্রপার কোলকাতা ছেড়ে ক্রমশ প্রায় পিছনের দিকে মনে আউৎকার্সের দিকে বাড়ি নিতে হচ্ছে।
আমি বলবো না!
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

ও সমস্যা তো চিরকালই কোলকাতায় ছিল এবং এখনও আছে।
কিন্তু কোলকাতার পুরোনো বাড়ি গুলো ডেমোলিস্ট হওয়ায় সমস্যায় পড়েছে কলকাতার 'ভূত'।
এখন আপনারা ভাবছেন - ভূত?
ও আচ্ছা মানে ভূত মানে আমি নিশ্চই অতীত বা ঐতিহ্যকে মিন করছি।
নো স্যার...
আমি ভূত বলতে ভূতকেই বোঝাচ্ছি।
ঘোস্ট, স্পিরিট, মরণোত্তর দশা।
কোলকাতায় যত পুরোনো বাড়ি গুলো ছিল, সব একেকটা ভূতদের ডিপো। কিছু বিখ্যাত যেমন গাস্টিন প্লেসের পুরোনো আকাশবাণী দপ্তর, ন্যাশালাল লাইব্রেরি, কোলকাতা হাইকোর্ট, রবিন্দ্রসদন মেট্রো স্টেশন ইত্যাদি... ইত্যাদি...ইত্যাদি...।
আরো বেশ কিছু পুরোনো বাড়ি গুলো ছিল রীতিমতো ভূতদের আড্ডা, সেই ভূতেদের আজ ঘোর ক্রাইসিস। কোনো রিহ্যাব্রিলেশন প্যাকেজ নেই, সরকারও এদের পুনর্বাসন নিয়ে ভাবছে না...।। তার কারণ...
এইবারে আপনারাও চুপ...কিংবা
আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ ভারী চিন্তায় পড়ে গেছেন সত্যি তো এর কারন কী!
তার কারন...
ভূতদের ভোট হয় না, মানে
তারা ভোটার নয়, কনসিউমার নয়।।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

না আমি এখানে ভূতের গল্পের বিবৃতি দিতে বসি নি। এতো গেল ভূতের কথা। অনেক বাজে বোকলাম...আপনারা হয়তো বলবেন আসল প্রসঙ্গ থেকে বেরিয়ে যত্তসব 'অপ্রাসঙ্গিক' কথা বলছি...। আসলে এগুলো অপ্রাসঙ্গিক নয়, পুরো গল্পটা পড়লে বুঝবেন...যাক সে কথা...

এতো গেল হেরিটেজ স্টাইলের বাড়ি গুলোর কথা, তাতে বসবাসকারী যতসব ভূতেদের কথা। আপনাদের আগেই বলেছি কোলকাতা হলো প্যাসানের শহর কিংবা ওই...ওই চমকের শহর। আপনি একটা সরু গলি দিয়ে হাঁটছেন হাঁটছেন...হাঁটছেন...হাঁটছেন... আসে পাশে অজস্র খাবার দোকান, ভ্যাগব্যান্ড-কুলি দের আড্ডা খানা কিংবা কখনো অস্থায়ী থাকবার জায়গা তারপর হট করে দেখলেন একটা বড় প্যালেস বা হয়তো বিশাল কোনো মন্দির। এটাই কোলকাতা। সবাই একে বলে THE CITY OF JOY - কিন্তু আমি বলি এটা চমকের শহর, এটা প্যাসানের শহর, এটা ইচ্ছার শহর।।

কলের কোলকাতাঃ

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
"পৃথিবী দূষণে দায়ী শহর গুলির মধ্যে এটি অন্যতম প্রধান শহর। এটি নোংড়া শহর। এটি কালো ধোঁয়ার শহর। এটি বায়ু দূষণের শ্রেষ্ঠ শহর।"
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

উপরিউক্ত সমস্ত লাইন গুলি এক-একটি খেতাব। যেগুলি কিনা বহু বছর ধরে কোলকাতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে বয়ে এসেছে এবং এখনও আসছে। সিনেমার ট্যাগ লাইন বা সাব লাইনের মতো এটাও একধরণের বিখ্যাত লাইন হয়ে গেছে। শুধু লোকোমুখে বংশপরম্পরায় চলে এসেছে বলে এই সাব লাইনটি 'খেতাব' -এর রূপ নিয়েছে।
চায়ের দোকান বা যেকোনো আড্ডার জায়গাতে কোলকাতা নিয়ে কোনো কথা উঠলেই প্রথম চান্সে আসে হাওড়া ব্রিজের কথা। তার পরেই আসে হাওড়া ব্রিজ তো ব্রিটিশদের তৈরি, ওই কারণেই এতদিন ধরে টিকে আছে, নইলে মাঝেরহাট ব্রিজের মতন কখন ভেঙে পড়ে যেত। এইখানেই হলো মূল বিপদ যে কোলকাতার মানুষ, কোলকাতাকে নিয়েই বিদ্রুপ-হাসি-তামাশা করছে আর বিপরীত দিকে যে বসে আছে সেও তা অম্লান বদনে স্বীকার তো করছেই বরং মেনে নিচ্ছে।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

'হাওড়া ব্রীজ ব্রিটিশদের তৈরি' কাঁচা সত্যি, এটা আপানি ও জানেন আমিও জানি, কিন্তু তাই বলে আমি যে শহরে থাকি তার নিন্দা করবো এটা ঠিক মেনে নেওয়া যায় না। আবার কখনওবা একটা বিদেশী যদি আমাদেরই এখানে কোনো অপরাধ মূলক কাজ করে তাহলে আমরা তাকে ধরে মার-ধর করি, সবাই বলে ওকে মার-রেপিস্ট কে মার, পকেটমারকে মার আর যদি বিদেশী হয় অর্থাৎ আমাদের দেশের না হয় তাহলে তাকে ধরে আরও বেশী করেই মারা হয়। আবার কোনো অস্ট্রেলিয়ান যদি আমাদের ভারতবাসী বা আমাদের কোনো বাঙালিকে ধরে মারে তখন আমরাই বলি 'একী সাম্প্রদায়িক ব্যবহার'। অর্থাৎ এখানেই হলো মূল গন্ডগোল। আমরা পরের দোষটা দেখতে পাচ্ছি, এবং খুব বড়াই করে তার সমালোচনা করতে পারছি, কিন্তু আমাদের নিজের দোষটা দেখতে পারছি না। এরকম ভাবে যদি আমরা সত্যি অন্ধ হয়ে যাই এবং আমরা প্রত্যেকে শিক্ষিত হয়েও এরকম অন্ধত্বের পথ কেই বেছে নিই। তা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য খুবই বিপজ্জনক। কোলকাতা একাই যদি সারা বিশ্বের কাছে বাংলা ও বাঙালির প্রতিনিধিত্ব করে তবে আমাদের এইরূপ আচরণ বন্ধ করতে হবে একেবারে অবিলম্বে।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata


কারখানা থেকে কালো ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে বলে আমরা কোলকাতাকে নোংড়া বলছি যাচ্ছেতাই ভাবে গালাগাল দিচ্ছি। কিন্তু পরক্ষনেই আমরা চামড়ার ব্যাগ ব্যবহার করছি কিংবা কারখানার তৈরি জিনিস আমাদের কাজে লাগাচ্ছি এবং আরও চাহিদা হানছি। অর্থাৎ মানুষ যখন কোনো কিছু বলে তখন তা একেবারেই ভেবে বলে না এখানেই হচ্ছে মূল বিপদ। এর থেকেই বোঝা যায় সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে বাঙালি কোনো ভাবেই ভাবা প্র্যাকটিস করে না।

নাবালিকা তিলোত্তমা নিয়ে স-পক্ষে যুক্তিঃ

কল্লোলিনী তিলোত্তমা সাবালিকা তো হয়েই নি, বরং এখনোও নাবালিকা-ই থেকে গেছে। থাকবে নাই বা কেন যেখানে শহরের লোকজনের মানসিকতা এবং শিল্প-সংস্কৃতি-চলচ্চিত্র দিকে দর্শকদের এখনও মনোবিকাশ হয় নি। আজ আমি তার মাত্র একখানা উদাহরণ দেব। এবং আমি জানি আমার এই একখানা উদাহরণই অনেক আচ্ছা আচ্ছা যুক্তিবাদীদের থামিয়ে দেবে। আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি আবার মানুষের মননে ঘা দেব। আজ্ঞে না আমি এবার শিল্পতেও যাবো না সংস্কৃতিতেও যাবো না। চলচ্চিত্র নিয়ে কথা বলবো। আর প্রথমেই আনবো যৌনতার প্রসঙ্গ। হলিউড-বলিউড ছবিতে যৌনতার স্ক্রিন দেখানো যায়, যৌন সুরসুরি দেওয়া যায় তাতে দোষ নেই, কিন্তু বাংলা কোনো চলচ্চিত্রে বিশেষ করে বাংলা ভাষার কোনো চলচ্চিত্রে সামান্য যৌন সুরসুরি থাকলেই সেটা বাজে, অসভ্য-নোংড়া সিন। লোকে সিনেমা দেখতে যাওয়ার আগে আরে সিনেমার নায়ক-নায়িকা মূল গল্প ছাড়ো, লোকে জিজ্ঞেস করে যে 'দাদা কোন সিনেমা?' বললো অমুক সিনেমা 'হ্যাঁ কটা নোংড়া সিন আছে...কটা নোংড়া সিন আছে...' আরে কেউ কেউ এমন ও আছেন যে যেসব পোস্টারে আলকাতরা মারা থাকে ওইসব সিনেমাই খালি দেখে কারণ ওতে সেক্স থাকে, একটা যৌন সুরসুরি থাকে...।

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
এবার আপনারা বিশেষত যারা বয়োজ্যেষ্ঠ তারা অনেকেই ভাবছেন যে ছেলেটা কি বাজে কিসব নোংড়া নোংড়া কথা বলছে। Yes! এখানেই হলো প্রবলেম-এখানেই হলো মুল গন্ডগোল, এই সব শব্দ নোংড়া কেন? এগুলো তো বাংলা শব্দকোষে আছে, বাংলা অভিধানে আছে, এমনকি ইংরেজি ডিকশনারিতেও আছে তাহলে? আসলে মূল গন্ডগোলটা হলো মানুষের অভ্যাসে বা কোলকাতার গণ বাঙালিদের অভ্যাসে, তারা অভ্যাসের বাইরে কোনো কিছু ভাবে না।
অপরাজিত চলেনি, ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল টপ প্রাইসটা পেয়ে আসার পরও সত্যজিৎ আরেকবার রিলিজ করলেন, চললো না।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

অযান্ত্রিক চলে নি, কোরাস চলে নি, ভ্যাঙ্খকের ছবি দেখেনা, জীবনানন্দ এখনও পড়েনা... এরকম একশো রকম উদাহরণ দেওয়া যায়। সবচেয়ে বড়ো কথা কি এগুলো কেন চলেনা? কারণ এগুলোর মধ্যে নতুন আছে, অভ্যেসের বাইরে কিছু আছে। বাঙালিদের মূল বৈশিষ্ট্য কি? সে অভ্যাসের বাইরে কোনো কিছুকে গ্রহণ করে না। কৃষণাঙ্গ আমার মতো দেখতে না, আমার জীবন থেকে বাদ। এইটা আমি শিল্প বলতে যা বুঝি তার বাইরে, আমার জীবন থেকে বাদ। আর মহৎ শিল্পের  আবশ্যিক লক্ষণ হল তা অভেসের বাইরের জিনিসকেই আমদানি করে। নতুনকে আমদানি করে। জাত দিতে চায়। Disturb করতে চায়। দিগন্তটাকে ভাঙতে চায়। মানুষের মানসিকতাকে ভাঙতে চায়। তাই বাঙালির দ্বারা এবং তাদের মানসিকতার দ্বারা কোনোদিন ভালো শিল্প অ্যাপ্রিসিয়েট করা হয় নি। এবার এখানেও গোলমাল আছে এখন কেউ বলবে - কে বলবে গুপী গাইন তো হিট ছবি। এখানে ব্যাপার আছে গুপী গাইন শুধু হিট ছবি নয় ১০২ সপ্তাহ ধরে টানা চলে রেকর্ড গড়েছিল।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
এরকম ব্যতিক্রম কিছু আছে। কিন্তু ঘটনাটা হলো গিয়ে এই ব্যাতিক্রমের সংখ্যাটা এতই কম যে সেগুলো একত্রিত করে বলা এক কথায় প্রায় অসম্ভব। তাই যেটা মনে আসলো সেটা বললাম আমি। উদাহরণ দিলাম একটা মাত্র।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

এটা যে খুব একটা বড় ব্যাপার এমনটা কিন্তু মোটেই নয়। এতো হামেশাই ঘটছে, এ আপনিও সাক্ষী আমিও সাক্ষী...।

ব্যাপারটা হলো ইংলিশ কিংবা হিন্দি ফিল্মে চুম্বনের সিন হোক রোম্যান্সের সিন হোক, যৌন সুড়সুড়ি থাকুক, সেক্স থাকুক, তাতে কোনো আপত্তি নেই, সেগুলো নোংড়া নয়। কিন্তু যখনই বাংলা ভাষায় সেগুলো হবে তখনই খালি নোংড়া। আর সব থেকে আসল ব্যাপার হলো আপনি যদি পরিচালক হন তাহলে তো আপনি একেবারে দায়বদ্ধ, মানে আপনাকে রীতিমত কৈফিয়ত দিতে হবে, যে কেন আপনি ওই সিন টা দেখালেন, কেন বইটা এডাল্ট বা A গ্রেডেড মুভি হলো। আর সবথেকে বড়ো ব্যাপার হলো কোনো সিনেমা হলে সেটা হিন্দি হোক কিংবা ইংরেজি হোক আর কোনো কথা নেই সব ছাড়ো খালি সিন নিয়ে কথা বলো কিংবা অমুক নায়িকার খোলা পিঠ নিয়ে কথা বলো...। সবথেকে মজার ব্যপার হলো যেটা তোকে এত মজা দিচ্ছে, এরকম আনন্দের একটা স্নান দিচ্ছে সেটাকে তুই তাহলে নোংড়া বলছিস কেন। মানে আমি বলছি যেটাতে আপনি আনন্দ পাচ্ছেন, মজা পাচ্ছেন সেটা তাহলে নোংড়া নয় পরিষ্কার। কিন্তু কোনো ভাষার কোনো চলচ্চিত্রে এরকমটা নয় শুধুমাত্র বাংলার এবং বাংলা ভাষার ক্ষেত্রেই এরকম।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

আরেক কথা...
টিভিতে না কিন্তু অফ নব থাকে যেটা অনেকেই জানেন না, মানে ভারতবর্ষের অনেকেই জানেন না। বা সিনেমা হলেও প্রত্যেকটা সিনেমাহলেই EXIT পয়েন্ট থাকে। সেটা যখন সিনেমাটা চলে, তখনও থাকে, জ্বলজ্বল করে একবারে। সেখানে বেড়িয়ে যেতে কিন্তু কোনো বাধা নেই। মানে আমি বলছি ধরুন সিনেমাটা আপনার ভালো লাগছে না, সেটা কোনো যৌনতার সিনই হোক কিংবা মানধাতা আমলের সিনেমাই হোক আপনার ভালো লাগেছে না, আপনি হলের বাইরে বেরিয়ে যাবেন। মানে এক্ষেত্রে পরিচালক দেখিয়েছে কিন্তু আপনার ভালো লাগছে না আপনি বেরিয়ে যাবেন, মানে ও দেখিয়েছে আমার ভালো লাগছে না আমি উঠে যাচ্ছি। সাহিত্যের ক্ষেত্রেও কিন্তু এই একই নিয়ম প্রযোজ্য সুকুমার রায়-শিবরাম চক্রবর্তী বিচ্ছিরি ভাবে হাসিয়ে যাচ্ছে। আপনার ভালো নাই লাগতে পারে আপনি তা তখন মেনে নিচ্ছেন। সত্যি তো এই ধরুন 'হ য ব র ল' আপনি পড়েছেন, আপনার মাথা ঘেঁটে 'ঘ' হয়ে গেছে আপনি পড়ছেন না, কিংবা আপনি দু-একটা বাজে মন্তব্য করে পড়া ছেড়ে দিয়েছেন। মানে কবি তার হাস্যরস দিকটি বর্ণনা করেছেন কিন্তু আপনার ভালো লাগে নি তাই আপনি পড়েননি। এটাই যুক্তি।
কিন্তু যৌনতার ক্ষেত্রে তখন ব্যাপারটা উল্টে যায়, না যে আপনি এটা দেখতে পারবেন না কারণ এটা অশ্লীল। এখানেই হলো মুল গণ্ডগোলটা।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

কখনও একটা বই বা একটা গল্পকে একমুখে বিচার করলে হয় না। সত্যজিৎ রায়কে কে একজন এসে বলেছিল যে মশাই আপনার চিত্রনাট্যটা ভালো নয় কিন্তু সংলাপ টা ভালো। তখন সত্যজিৎ রায় বলেছিল যে মশাই চিত্রনাট্য-টাও সংলাপের একটা অঙ্গ, যা বোঝেন না তাই নিয়ে কথা বলবেন না।
অর্থাৎ একটা সিনেমার ওটা ভালো আর ওটা খারাপ। চরিত্র গুলো ভালো কিন্তু গানটা খারাপ বা গানটা ভালো কিন্তু ওই গানের ওই লাইট টা ভালোনা বা ওটা কাঁপছে, এরকম করে কখোনো একটা সিনেমা বিচার করা যায় না। সিনেমা বা চলচ্চিত্র হলো একটা বিশেষ মিশ্রণ যেটাতে কিনা অনেকগুলি উপকরণ যেগুলি একে অপরের পরিপূরক নয় সেগুলিও একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে। একজন পরিচালকের কাজই হলো তাই বিচ্চিন্ন এবং অ-পরিপূরক সমস্ত উপাদান গুলিকে একসঙ্গে সঙ্গবদ্ধ ভাবে কাজ করিয়ে একটা গোটা জিনিসকে প্রেজেন্ট করা। আরেকটা কথা হলো 'অপ্রাসঙ্গিক'। এই ভাষাটিও বাংলা ভাষা ও বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গে সগর্বে উচ্চারিত হয়। সামান্য এই ছোটো শব্দটির মধ্যেও একটা গভীর অর্থের দোতোনা আছে। এই যেমন ধরুন আমি এতক্ষন অনেক কথাই বলছি, কথা প্রসঙ্গেই একএক করে কথা এসেছে কেউ কেউ বলছে ধুর মশাই এ পুরো ভাট গজিয়েছে কোলকাতা কে নিয়ে ইভেন্ট এতে এত কথা আসছে কেন, সিনেমা-সাহিত্য-শিল্প যত্তসব অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। সবাই বলছে বলছি না, আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ বলছে। যারা বলছে আপনি তাদেরকেই একটা সিনেমা চালিয়ে দিন যার মধ্যে যৌন দৃশ্য আছে, আপনার মুখের উপর একটা কথাও বলবে না, চুপচাপ খুকুর মতো বসে বসে দেখবে। এবার আপনি ওকে ওনার ভাষাতেই বলতে যান - এখানে যে সিনটা আছে এটা তো বাজে, নোংড়া সিন, এতে তো যৌন সুড়সুড়ি আছে, আমাদের চলচ্চিত্র কে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। সে বলবে হ্যাঁ, আপনি ঠিক বলেছেন, বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষতি করছে, করুক, আমিও না খুব বাজে এই সব সিন দেখছি। ঠিক বলেছেন আপনি।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

বলে আবার মন দিয়ে দেখবে। তো এটাই হচ্ছে কথা যখন 'গুপি গাইন বাঘা বাইনে' একটা ভূতের নাচ ৬ মিনিট ধরে হলো। এরা কি গুপি বাঘার বন্ধু? তাতে লোকে অপ্রাসঙ্গিক বলছে না, 'পথের পাঁচালি' যে দের-দুই মিনিট ধরে জল ফড়িং এর খেলা চলল তাতেও লোকে তাকে অপ্রাসঙ্গিক বলছে না, সত্যিতো বলবেই বা কেন আমরা জানি পথের পাঁচালি কিংবা গুপি গাইন বাঘা বাঘা বাইনে ভূতের নাচ বাংলা চলচ্চিত্রে মোস্ট সুইটেস্ট একটা সিকুয়েন্স, ওই দৃশ্য গুলিতে বাংলা সংস্কৃতি বা বাংলা পরিবেশকে যেভাবে  ধরে তার আর জুড়ি নেই কোনো। রবীন্দ্রনাথ ৪ লাইনের একটা কবিতাকে ৪০০ তে বাড়িয়ে নিয়ে গেল শুধুমাত্র ভলিউম বাড়াবে বলে, বিভূতিভূষণ পাতার পর পাতা আঁশশেওড়া গাছের বর্ণনা দিয়ে যাচ্ছে, আর ওদিকে মানিক-শরদিন্দু  পাতার পর পাতা পাহাড়ের বর্ণনা করে যাচ্ছে। লোকে সেগুলোকে অপ্রাসঙ্গিক বলছে না, কিন্তু এগুলো অপ্রাসঙ্গিক? সেভাবে দেখতে গেলে তো কোনোটাই অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নয়, আর যদি ওগুলো অপ্রাসঙ্গিক হয় তবে আমাকে এগুলোকেও অপ্রাসঙ্গিক বলে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়। কিন্তু আদতে তা হয় না।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

যুক্তি-তর্কের সব থেকে বড় দোষ হল এটা কোনোদিন এক একে থেমে থাকে না। যেমন বাসেও যখন আপনার পা কেও মাড়িয়ে দেয় আপনি কি করেন? গালাগাল দেন, পারলে আপনি তার পা মাড়িয়ে দেন।
যদি সত্যি একজন পা মাড়িয়ে দিলে, আবার তার পা মাড়িয়ে কেউ দেয়, এবং সে আবার তার পা মাড়িয়ে দেয় এবং  সে আবার তার পা মাড়িয়ে দেয় এভাবেই যদি জিনিসটা চলতে থাকে তবে সেটাকেই বলে 'অসভ্যতা'...।
সভ্যতা হচ্ছে প্রাইমারি যে ইম্পাল্স মানুষের তক্ষুনি অটোওয়ালা আমার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করলে আমারও মনে হয় অটোওয়ালা মেরে দিই, একটা সুন্দরী মেয়ে রাস্তা দিয়ে গেলে আমারও তক্ষুনি মনে হয় জড়িয়ে ধরি। এই প্রাইমারি ইম্পাল্স গুলোকে দমন করে নীতির কাছে যাই বলে আমরা 'সভ্য', 'সভ্যতার' জার্নি (Journey) হচ্ছে 'প্রাইমারী ইম্পাল্স' থেকে নীতির দিকে যাত্রা। সেটাকে যদি কেউ কন্ট্রিবিউট না করে তাহলেই সে 'অসভ্যতা' চাইছে।

কিছু কথার প্রসঙ্গে আমি এত কথা বললাম, অনেকে বলবে হয়তো কোলকাতার নিন্দে করছি।

ঐতিহ্য:


কোলকাতা যে একটা ঐতিহ্যবাহী শহর তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সব শহরেই যেমন কিছু খারাপ দিক থাকে ঠিক তেমনই কিছু ভালো দিকও থাকে। আসলে আমি বিশ্বাস করি, একটা শহর ভালো এবং খারাপ নির্ভরকরে সম্পূর্ণ সেই শহরের বসবাসকারী মানুষজনদের উপর, মানসিকতার উপর এবং শহরের পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উপর।
কোলকাতার প্রত্যেকটি জায়গাই আদতে দর্শনীয় স্থান। যদিও এ কথার পক্ষপাতিত্ব আছে অনেক। পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে আর প্রশ্ন তুলবো না, শুধু এইটুকু বলবো কোলকাতার প্রত্যেকটি জায়গা যেমন কোনোনা কোনো ঘটনার সাক্ষী। তাই বিশেষত কোলকাতার অতি সামান্য জায়গাকেও যদি আপনি একটু খুঁটিয়ে দেখেন তাহলে আপনিও বুঝবেন যে ওটি আসলে একটি দর্শনীয় স্থান কিংবা ঘুরতে যাওয়ার জায়গা। যেমন,

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের পড়ির স্ট্যাচু আজও সেই প্রাচীন কোলকাতাকে মনে করিয়ে দেয়। মনে করিয়ে দেয় ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের কথা।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

ক্যালকাটা মিউজিয়াম বা জাদুঘর, মনে করিয়ে দেয়, সংগ্রহের কথা। বারংবার যেন যাচাই করে পুরোনো সত্যতা। একবার ঘুরতে গেলেই বুঝতে পারবেন এতকাল পরে এসেও কিছুই বিসৃত হয়নি, মানুষের এই বৃহদাকার সমুদ্রে সবই একসময় সত্যি ছিল, বাস্তব ছিল।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata


বিড়লা তারামণ্ডল, ঐতিহাসিক সৌন্দর্যতা ছড়ায়। সাক্ষি দেয় বহু গ্রহ-নক্ষত্রের।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

বাবুঘাট-প্রিন্সেপ ঘাট সাক্ষী দেয় বহু অসমাপ্ত প্রেমের।

ডালহৌসির কফি হাউস আজও বহু অপূর্ণ স্বপ্নের সাক্ষী হয়ে থেকে গেছে।

রবীন্দ্র সরোবরের সেই লেক হাজারো প্রাক্তনদের ভিড়ে আজও একটুও হারায় নি।

নবীন চন্দ্র দাসের সেই বিখ্যাত রসগোল্লা ছাড়া কোলকাতা আজও অসমাপ্ত।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata


ডালহৌসির টেলিফোন ভবন ও আয়কর ভবন আজও পাশ্চাত্য অফিসিয়াল রীতিনীতির বর্ণনা দেয়।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata


সেই সেক্টর-ফাইভ আজও চাকুরীজীবীদের আইকন হিসেবে থেকে গেছে।

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata


নিউটাউন আজও ভাঙা বক্ষের মতো হাহাকার ডাক পারে।

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
পার্কস্ট্রীটের চ্যাটার্জী ইন্টারন্যাশনাল আজও বহু আফিসের ঠিকানা দেয়।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata


আকাশবাণী ভবন আজও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহালয়ার শ্রোতা।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

ইডেন গার্ডেন এখনও কোলকাতার মানুষদের আবেগ ও উচ্ছাসের হৃদপিন্ড হিসেবে কাজ করে।

শ্যামবাজারের নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস, আজও স্তব্ধ ঘোড়সওয়ার হয়ে বর্তমান ভারতবর্ষকে পর্যবেক্ষণ করে যায়।

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

দক্ষিণেশ্বর-বেলুর মঠের রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ আজও বটগাছের মতো হাজারো মানুষকে ছায়া দেয়।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

বনগাঁ এখনো বিভূতিভূষণের ঠিকানা হয়ে পড়ে আছে।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

জোড়াসাঁকো-শান্তিনিকেতন আজও বিশ্বকবির প্রতিনিধিত্ব করে।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

দত্তপুকুর-বামনগছি এখনোও বহু রাজত্বের সাক্ষি দেয়। কৃষির সাক্ষী দেয়।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

নিমতলা-কেওরাতলা আজও বহু লোভ-লালসা-ঈর্ষার ধ্বংসস্তূপ।

The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

পরিশিষ্ট লেখক মনোভাব:

কোটি কোটি ভাবনা মিশিয়ে তৈরি হয় বাস্তব।
আর সেই বাস্তবতাকেই তুলে ধরা আপনাদের সামনে। সত্যি সর্বদা তেঁতোই হয়। যদি আমি তারিণীখুড়োর আদতে বলতাম তাহলে হয়তো আপনাদের ভালো লাগতো, কারণ বাস্তবের প্রতিচ্ছবি তখন হত রংচড়া। কোলকাতা নিয়ে যদি আমি বলতে যাই তাহলে হয়তো ১ বছর কিংবা তারও বেশী সময় লেগে যাবে, লিখতে বসলে লক্ষাধিক শব্দ ব্যবহার করলেও সেই দুরুহ লেখা শেষ হবে না। অনেক কথাই হয়তো বলা হলো না, ইচ্ছা ছিল ভিক্টোরিয়া নিয়ে কিছু কথা বলবো, কুমোরটুলি নিযে কিছু কথা বলবো, ময়দান নিয়ে কথা বলবো, গড়ের মাঠ নিয়ে কথা বলবো, হলুদ পাকা আমের মিষ্টি গন্ধে ভরপুর সেই চন্ডীদের বাগান নিয়ে কথা বলবো, ইচ্ছা ছিল সেই বদ্ধ পাগল মেহেরআলির জীবনী বলবো।
আর হলো কই...
সেসব না হয় বলবো আরেকদিন।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata

সমাপ্তি পদঃ


আমি জানি, আপনাদের মধ্যে কারও কারও হয়তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ছোটোগল্পের সারমর্মের' একটি লাইন মনে পড়ছেঃ "আহা! শেষ হয়েও হইল না শেষ"... এখানে "আহা" -র জায়গায় সত্যি "আহা" না "হায়!" হবে তা অবশ্য আমি সঠিক করে বলতে পারবো না...।।

তবুও বলছি,
আরেকবার বলছি,
এটা গল্প নয়, আধুনিক কোলকাতা ও বর্তমান বাঙ্গালী সমাজের নিগুঢ় বাস্তব।
যা নিঃসন্দেহে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বিপজ্জনক এবং একই সঙ্গে নির্মম।
বাংলা ভাষাকে সম্মান করুন, জেগে উঠুন, দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দিন।
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata
The City of Joy Kolkata - Introducing A New Kolkata


শেষ হলো এক নতুন কোলকাতার পূর্ণরুধ্যায়, পুনঃপরিচয়।


সংলাপ ও পরিচালনা : দীপজ্যোতি মোদক
প্রকাশনা : DjM The PhotoFACTORY ORIGINALS
সম্পাদনা : তন্ময় রায়
পৃষ্ঠপোষকতা : অনুভব চক্রবর্তী এবং তানিয়া চন্দ্র
সোশ্যাল মিডিয়া পাবলিসিটি : দিব্যেন্দু - অয়ন - প্রিয়াঙ্কা
সহযোগিতা - Team PhotoFACTORY

Comments

Subscribe for our Newsletter

RE-IMAGINING THE WAY
Back to top