চন্দ্রবিলাপ প্রাগজ্যোতিষের পরবর্তী এক ঐতিহাসিক অধ্যায় : Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish

চন্দ্রবিলাপ প্রাগজ্যোতিষের পরবর্তী এক ঐতিহাসিক অধ্যায় : Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish


Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish
Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish

কৃতজ্ঞতা স্বীকার

Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish
Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish

'চন্দ্রবিলাপ' এই গল্পটি মূলত শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যাযের ঐতিহাসিক উপন্যাস 'প্রাগজ্যোতিষ' -গল্পটি থেকে অনুপ্রানিত।
এখানে শ্রী শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় তার প্রাগজ্যোতিষ গল্পটিতে প্রদ্দুগ্ন ও মঘবার বন্ধুত্ব এবং আর্যজাতির আগমন ও অনার্য জাতির গমন, আর্য-অনার্য যুদ্ধ, আর্য-অনার্য বিবাহ ইত্যাদি সব ব্যক্ত করেছেন, এখানে বিবাহের প্রাক্কালে নায়ক হয়েছিলেন মহারাজ প্রদ্যুগ্ন, চন্দ্রবিলাপ গল্পটি মূলত আর্যএলাকা বৃদ্ধির পর পরবর্তী বন্ধু-রাজা মঘবা ও তার স্ত্রী রানী অমরাবতি কে নিয়ে, প্রদ্যুগ্নকে নিয়ে না, তার কারণ প্রাগজ্যোতিষ গল্পের শেষে প্রদ্যুগ্ন রাজা হয়ে যান, তাদের সৃষ্ট নিয়মানুযায়ী।
চন্দ্রবিলাপ গল্পে শ্রী শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যাযের সৃষ্ট চরিত্র প্রদ্যুগ্ন ও তার স্ত্রী এবং মঘবার থাকলেও রানী অমরাবতী নেই, এক্ষেত্রে বলা বাহুল্য রানী অমরাবতী আমার সৃষ্ট চরিত্র, এক কথায় বলা যেতে পারে 'চন্দ্রবিলাপ', 'প্রাগজ্যোতিষ' গল্পেরই পরবর্তী অধ্যায়।।
ইতি,
দীপজ্যোতি মোদক,
কোলকাতা-৭০০১২৯
Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish
Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish

Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish
Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish

Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish
Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish

Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish
Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish

Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish
Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish

Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish
Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish

Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish
Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish

Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish
Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish

Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish
Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish


....
....


....
....



চন্দ্রবিলাপ
দীপজ্যোতি মোদক

|| অনুপ্রেরণা : প্রাগজ্যোতিষ ||
 ||   শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যাযের ঐতিহাসিক উপন্যাস   ||


আজ থেকে বহু হাজার বছর আগের কথা। তখন আর্য জাতি সবে মাত্র ভারতবর্ষে পদার্পণ করতে শুরু করেছে। আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র তখন ছিল শান্ত, মানুষ তাদের গতিবিধি কার্যকলাপের উপর করা নজর রাখতে আরম্ভ করে নি, তখনও মুনিঋষিরা শান্ত হয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানের কথা আলোচনা করতে শেখেনি,
ঠিক এমনই সময়কালে,
চাঁদের শুভ্র মুখের উপর ধুম্রোবর্ণ ছায়া পড়েছে,
করাল ছায়া,
চাঁদ কিন্তু তার বিপদের আভাস তখনও পায় নি,
তাকে যে রাহু নামের এক রাক্ষস গ্রাস করতে আসছিল, পঞ্জিকা না থাকার দরুন সে তার পূর্বাভাস পায় নি।
ওদিকে রানী অমরাবতীও মহাফাঁপরে পড়ে গিয়েছিল।
স্নানের বেলায় চাঁদের দর্শন না পেলে, তার রূপ নষ্ট হয়ে যাবে এই ভয়-চিন্তায়-ক্ষোভে-আশঙ্কায় সে চাঁদকে অনবরত শাপ-শাপান্ত করতে লেগেছিল, এত গালমন্দতেও কিন্তু কোনো ফল হলো না, পূর্ণগ্রাস গ্রহণ লেগে গোটা চাঁদই কিন্তু রাহু নামে এক রাক্ষসের শিকার হলো।
ওদিকে রানী অমরাবতীর স্নানের সময় পেরিয়ে যাওয়ায়, নিরুপায় হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখের জল ফেলছিল, সময় বলে কোনো বস্তু তখনও জন্মগ্রহণ করে নি, অনেকক্ষণ পর চাঁদ যখন তার সোনার থালা হাতে করে উপস্থিত হলো, তখন চাঁদের দিকে ঘৃণাপূর্ণ ভাবে রানী অমরাবতী তাকিয়ে বললেন "এতদিন তোমায় আমি ভালোবেসেছিলাম, শ্রদ্ধা করেছিলাম, আজ তোমার জন্য আমার প্রতিদিনের নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে, তুমি কিনা আমার সৌন্দর্যের প্রতীক, যার মুখেই এত কলঙ্ক সে কখনো সৌন্দর্যের প্রতীক হতে পারে না..."। চাঁদ কিন্তু মনে মনে কষ্ট পেলেও সে কিন্তু তার ব্যাবহারিক গুণের পরিচয়টি দিলো, নিরীহ-শান্ত-সুন্দর সোনার মতো মুখ করে সে রানীকে তার আলোতে আলোকিত করলো, অমররুপি অমরাবতী তার দেহের শারীরিক সৌন্দর্যের দম্ভ নিয়ে স্নান করতে নামলেন রাজবাড়ির স্বরবরে, সঙ্গে পাহারায় রাজকীয় ভঙ্গিতে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন একাধিক নারীমূর্তি,
Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish
Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish

রানী ডুবদিল,
সরোবরের জলে প্রবল কম্পন সৃষ্টি হলো,
রানি স্নান শেষ করলো,
তার সঙ্গীরাও একেএকে রাত্রস্নান শেষ করলো,
স্নানশেষে সঙ্গীরা তাদের রানীর দিকে তাকিয়েই শিউরে উঠলো, রানীর চাঁদের মতো মুখ খানায় কিসের যেন দাগ পড়েছে,
"কলঙ্ক?
হ্যাঁ তাই হবে হয়তো?" একাএকাই কোন সঙ্গী যেন বলে উঠলো,
রানীর মনে হালকা আশঙ্কা মিশ্রিত ভয়ের সৃষ্টি হলো,
ওদিকে শান্ত সরোবরের জল চাঁদের সঙ্গে জোট বেঁধে উজ্জ্বল ভাসমান আয়নার সৃষ্টি করেছে,
মৃদুকম্পিত জলে রানীতার মুখ দেখলো,
এবং চমকে উঠলো,
রানীর গালে কিসের যেন দাগ উঠেছে,
কালচে খয়েরী রঙের ও কিসের দাগ,
তৎক্ষণাৎ রানীর মনে পড়েগেল তার বচসা কথা যেটা কিনা সে অকারনেই করেছে চন্দ্রের উপর।
রানী হাওমাও করে কাঁদতে লাগলো, অহংকারী রূপবতী রানী অমরাবতীর এমন অবস্থা দেখে, ওদিকে আকাশের চাঁদেরও বোধহয় ভারী মজা হলো, সে বোধহয় মেঘের আড়ালে থেকে ব্যাঙ্গ মিশ্রিত কৌতুকের সুরে গান শুরু করে দিলো,
"হায়! কি মজা হায় রে!,
রূপবতীর অবস্থাখানা দেখবি যদি আয় রে..."
এমন-ই হয়তো গান, কি গান যে সে তখন গাইছিল সেটা অবিশ্যি একমাত্র চাঁদই জানে।।
...
...
...
ভোরহলো...
Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish
Chandrabilap The next Historical Chapter of Pragyatish

ওদিকে আকাশের চাঁদও কিন্তু তার নিজের শেষ আলোক বিন্দুটুকু দিয়ে, খালি হাতে তার বাড়ি চলে গেছে, রানীর সখী এবং রক্ষী বাহিনী গুলো সব সরোবরের বাঁধানো ধারে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে, রানীও কাঁদতে কাঁদতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল সেটা কিন্তু কারও খেয়াল নেই।
...
...
সকালে কিন্তু রাজবাড়িতে হুলুস্থুল পরেগেল, রানীকে খুঁজে না পাওয়ার পাওয়ায় মহারাজ মঘবা মহারানীকে খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে স্বরবরের ধারে এসে উপস্থিত হলো, রানীর এরূপ অবস্থা দেখে মহারাজ মোঘবা মেঘমন্দ্র সুরে বললেন, "সেনাপতি প্রদদূগন্ন অবিলম্বে রাজবৈদ্যতে খবর দাও, রানীর শরীরে অসুস্থতার লক্ষন স্পষ্ট..."
...
...
...
রানীর জ্ঞান ফিরলে পর, রানী দেখলো সে তার কক্ষে তার খাটে শুয়ে আছে, তার মাথার শিয়রে চিন্তামৃদু ভঙ্গিতে বসে রয়েছে মহারাজ মঘবা।
রানীর জ্ঞান ফিরেছে দেখে মঘবা বললেন, "যাক তোমার জ্ঞান ফিরছে দেখে স্বস্তি পেলাম তোমার রক্ষিবাহিনীদের কাছে শুনলাম কাল তুমি নাকি ভুলভাল বকেছিলে, তোমার মুখে নাকি কিসব কলঙ্ক জন্মেছে, তোমাকে ভুলভাল বকতে দেখে  রক্ষিরা চেষ্টা করেছিল তোমাকে ঘরে নিয়ে যাবে কিন্তু ওরা তোমার গায়ের জোরের সঙ্গে পেরে ওঠেনি, ও শুনলাম তুমি নাকি সেনাপতি প্রদদূগন্নকে ধমকও দিয়েছ, এতসব ঘটনার পর সব শেষে ভোর হলে তোমার রক্ষিবাহিনীদের মধ্যে একজন আমায় এসে খবর দেয় এবং আমি তড়িঘড়ি করে রাজবৈদ্যকে খবর দি। যাকগে কি হয়েছিল কাল বলদেখি তোমার মুখ থেকেই শুনি..."
এতসব কথা শুনে রানী তখন হতভম্ব কাকে মেরেছিলো কাল রানী, কাকে ধমক দিগেছিলো, কি বলছে এসব মহারাজ।
রানী তখন হটাৎ-ই উত্তর খুঁজে পেল, মৃদু হেসে মহারাজকে বলল "গতকাল চন্দ্র বিলাপ করেছিল, আর আমি তার বিলাপে জোট বেঁধেছিলাম মাত্র"। মহারাজ মঘবা মহারানীর কথার কোনো অগ্রপশ্চাদ বুঝতে না পেরে পুরনো অভ্যাস মতো সে তার দাঁড়ি টানতে লাগলো।।


শেষ হলো আরেকটি ঐতিহাসিক কাহিনী চন্দ্রবিলাপ

অতিরিক্ত পরিচিতি এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকার

সংলাপ - সম্পাদনা ও পরিচালনা -  দীপজ্যোতি মোদক
 অনুপ্রেরনা - শ্রী শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশনা - DjM The PhotoFACTORY ORIGINALS
সহযোগিতা - Team PhotoFACTORY



Post a Comment

0 Comments