কোলকাতার সেরা লস্যির দোকান : The best Lousy store in Kolkata

কোলকাতার সেরা লস্যির দোকান : The best Lousy store in Kolkata

কোলকাতার সেরা লস্যির দোকান : The best Lousy store in Kolkata
কোলকাতার সেরা লস্যির দোকান : The best Lousy store in Kolkata
কয়েকদিন আগে,
আমি আর আমার এক বন্ধু জনি,
জরুরি এক কাজে চাঁদনি চক গিয়েছিলাম,
সময়টা ছিল তখন প্রায় বিকেল, 'প্রায়' বলছি এই কারনেই যে তখন দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকেল হতে যায়, ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে বাড়ি ফেরার পথে কথায়-কথায় হঠাতই লস্যি খাওয়ার কথা ওঠে, আমার বন্ধু একটা উৎকৃষ্ট মানের দোকানের নাম না করেই সেটাকে একেবারে কলকাতার সেরা লস্যির দোকান বলায়, আমার রোখ চেপে যায়, ওর ধারনাকে প্রায় ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করার জন্যই ওই দুপুর বেলা রোদের মধ্যে আরো কিছু দূর হেটে বেকারস্ট্রিটে ধর্মতলার পাঁচমাথার মোড় ক্রস করে কে.সি.দাসের মিষ্টির দোকান পেরিয়ে অবশেষে সেই উৎকৃষ্ট মানের অমৃতের ভান্ডারের সামনে এসে হাজির হই আমরা দুজনেই, অর্থাৎ সেই লস্যির দোকানটা...
দোকানের সামনে যেতেই এক যুবক হিন্দিতে বলে ওঠে, "ক্যায়া বাবু, লস্যি পিয়োগে না?"
হ্যাঁ করাতেই, অকারনে ক্ষিকখিক করে হেসে উঠে ওই যুবক বলে,"ক্যাসি লস্যি পিয়োগি বাবু, কেশর আছে ঔর প্লেন-ভি আছে"। প্লেন লস্যি অর্ডার করতেই, হাতে কিঞ্চিৎ ঠান্ডা বড়ো এক কাপ-গ্লাস জাতীয় জিনিস ধরিয়ে দিল। সেই লস্যির ওপরে সন্দেশ-কলার টুকরো, কাজু-কিশমিশ-আরও কত্ব-কী...
স্ত্র দিলো,
কিন্তু আমি স্ত্র-টা সম্পূর্ণ রূপে অগ্রাহ্য করে এক চুমুক দিলাম, সত্যি যেন অমৃত খেলাম।
তখন সেদিনকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ওই কবিতাটা বার বার মনে পড়ছিল, ঐযে
"আমসত্ত্ব দুধেতে গলি,
তাহাতে কদলী দলী,
সন্দেশ মাখিয়া দিয়া তাতে,
হাপুস-হুপুস শব্দ,
চারিদিক নিঃস্তব্ধ,
পিপিড়া কাঁদিয়া যায় পাতে"।।
সত্যি দুধের সঙ্গে যদি কলা আর সন্দেশের যুগলবন্দি হয় তবে সে জিনিষ কী আর অমৃত না হয়ে থাকতে পারে...।।
অবশেষে লস্যি খেয়ে দোকানের নাম জিজ্ঞেস করাতে এক কর্মচারী গদগদ হয়ে বললো- আজ্ঞে ইয়ে শপকা নাম হ্যায় শিপ-ন-ড্রিংক, বলছিলাম বাবু ফোটো খিঁচবেন না একটাও দোকানের...
এই কথাতেই আমি ফোটাশ করে বুঝে গেলাম যে আমাদেরকে নির্ঘাত ও সাংবাদিক ভেবে ফেলেছে, আমার যে গল্প লেখার অভ্যাস আছে আমি আর তাকে কিছু বললাম না...। শুধু মুচকি হেসে জনিকে দিয়ে প্রায় তিন থেকে চার খানা ফটো তুলিয়ে নিলাম...।।


Post a Comment

1 Comments